প্রবাস ডেস্ক
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় তহবিল ১এমডিবি কেলেঙ্কারির হোতা পলাতক ব্যবসায়ী জোহ লো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে রাজক্ষমা পাওয়ার চেষ্টায় এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন।
মালয়েশিয়া থেকে শিশু যৌন নিগ্রহে অভিযুক্ত এক বাংলাদেশি নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের পেছনে নিজের ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
তবে মালয়েশীয় কর্মকর্তারা তার এই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, এই প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়ায় জোহ লোর কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিল না।
জোবাইদুল আমিন (২৮) নামের ওই বাংলাদেশি তরুণ মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কাসহ বিভিন্ন দেশের শত শত অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে যৌন নিপীড়ন ও পর্নোগ্রাফি তৈরিতে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে।
২০২২ সাল থেকে এফবিআই এবং মার্কিন বিচার বিভাগের সাথে দীর্ঘ যৌথ তদন্তের পর গত ৪ মার্চ মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তাকে মার্কিন কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেয়। বর্তমানে তিনি আলাস্কায় বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোহ লো তার রাজক্ষমার আবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা ও প্রত্যর্পণে সহায়তা করতে পারেন, যার উদাহরণ হিসেবে তিনি জোবাইদুল আমিনের ঘটনাটি টেনে আনেন।
যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রত্যর্পণের বিষয়টি জো বাইডেন ও ডনাল্ড ট্রাম্প উভয় প্রশাসনের অধীনেই পেশাদার পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন ছিল।
মালয়েশীয় প্রশাসনও জোহ লোর এমন দাবিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় তহবিল ১এমডিবি থেকে প্রায় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরির মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত জোহ লো ২০১৬ সাল থেকে পলাতক রয়েছেন।
সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে তার নাম ‘প ক্ষমা’র তালিকায় দেখা গেছে। যদি ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করেন, তবে তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সব ফৌজদারি মামলা থেকে তিনি রেহাই পাবেন। দীর্ঘ সময় ধরে তার অবস্থান নিয়ে রহস্য থাকলেও ধারণা করা হয় তিনি বর্তমানে সাংহাইতে আত্মগোপনে আছেন।
