আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা পুনরায় চালু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে বিদেশি স্টুডেন্ট ভিসার (শিক্ষার্থী ভিসা) অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে।তবে এবার আবেদনকারীদের জন্য বাড়তি কিছু শর্ত যুক্ত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর অন্যতম হলো—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো ‘পাবলিক’ বা উন্মুক্ত রাখতে হবে, যাতে কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের অতীত কার্যক্রম ও মনোভাব বিশ্লেষণ করতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগের বরাত দিয়ে পৃথক প্রতিবেদনে জানিয়ছে এপি ও বিবিসি। বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সব দূতাবাসে নয়া এই নির্দেশ প্রেরণ করা হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো সর্বজনীন করতে বলা হবে, যাতে আরও নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা যায়। এর অর্থ হলো, ফেসবুকে যদি কারও আইডি লক করা থাকে, তবে তারা বিবেচিত হবেন না; আইডি আনলক করে রাখতে হবে যাতে সহজেই যাচাই-বাছাই করা যায়।
বিবিসির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘেঁটে দেখেন, কোনো ধরনের বিদ্বেষমূলক মনোভাব আছে কিনা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, সংস্কৃতি, সরকার, প্রতিষ্ঠান কিংবা দেশটির প্রতিষ্ঠার মূলনীতির প্রতি কোনো নেতিবাচক মনোভাব থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত অথবা সমর্থক অথবা যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কঠোর সমালোচক বলে কোনো তথ্য সোস্যাল মিডিয়ায় পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিদেশিকে স্টুডেন্ট ভিসার অযোগ্য বিবেচনার নির্দেশনা রয়েছে সেখানে।
এর আগে মে মাসের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করেছিল। কারণ তারা মার্কিনবিরোধী মনোভাবসম্পন্ন আবেদনকারীদের ভিসা দেওয়ার ব্যাপারে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিল।
এই নতুন নির্দেশনা মূলত ‘এফ’ ক্যাটাগরির ভিসা আবেদনকারীদের ওপর প্রভাব ফেলবে, যা সাধারণত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হয়।
এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত ‘এম’ ভিসা এবং বিনিময় শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত ‘জে’ ভিসার জন্য আবেদনকারীরাও এই নতুন নীতির আওতাভুক্ত হবেন।
মার্কিন ভিসা কর্মকর্তাদের আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করেন যারা ঘোষিত বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন জানায়, তাদের সাহায্য করে বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে; কিংবা যারা অবৈধভাবে ইহুদি-বিরোধী হয়রানি বা সহিংসতায় জড়িত।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ওপেন ডোর্স’ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষে দেশটির কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশ্বের ২১০টিরও বেশি দেশ থেকে ১১ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়।
