নিজস্ব প্রতিবেদক, মুন্সিগঞ্জ
মহাসড়কে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, মহাসড়কে উবার চালক সেজে প্রবাসীদের গাড়ি লক্ষ্য করে ডাকাতি করতো তারা। এরা সবাই অন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সদস্য। মঙ্গলবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন—নারায়ণগঞ্জের দক্ষিণ কাচপুর এলাকার শরীফ সরকার (২৬), মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া এলাকার সাজেদ আলম (২১) ও মো. রানা (২৬)। তারা আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অপর দুইজন ভিন্ন মামলায় বর্তমানে জেলহাজতে ও সুজন (২২) নামে একজন পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছে তল্লাশি চালিয়ে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, দুইটি হেলমেট, একটি চাকু, চাপাতি ও ছোরাসহ এক প্রবাসীর কাছ থেকে ডাকাতি করা একটি আইফোনসহ মোট দুইটি মোবাইল ফোন ও একটি স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২৬ জুন) দুপুর ২টায় জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মুন্সিগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মোহাম্মদ বদিউজ্জামান। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সহ জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ সদস্যরা।
তিনি জানান, গত বছরের ৮ ডিসম্বর গভীর রাতে কক্সবাজার এলাকার বাসিন্দা দুবাই ফেরত প্রবাসী মো. ওসমান, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় মহাসড়কের বালুয়াকান্দি এলাকায় পৌঁছালে ডাকাতদের টার্গেটে পড়েন তিনি। এরপর রাত ৩ টার দিকে গাড়িটি মেঘনা সেতুর ওপর আসতেই ৬ ডাকাত দুইটি মোটরসাইকেলে করে ব্যরিকেড দিয়ে গাড়ির গতিরোধ করেন। পরে তারা ওই প্রবাসী, গাড়ির ড্রাইভার ও সাথে থাকা আরেক স্বজনের মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ, বিদেশে থেকে আনা মালামাল ভর্তি লাগেজ, নতুন আইফোন, স্বর্ণের চেইন সহ বিভিন্ন মালামাল লুটে নেন।
পরে গত বছর ১৩ ডিসেম্বর প্রবাসী মো. ওসমানের দায়েরকৃত মামলার সূত্রধরে এই অভিযান চালানো হয়েছে। দীর্ঘদিন প্রচেষ্টার মাধ্যমে গতকাল মঙ্গলবার সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাত দলের শরীফকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকি দুইজনকে গ্রেপ্তার সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা প্রাথমিকভাবে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, বুধবার দুপুরে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেখে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে এই চক্রের সদস্যদের কারাগারে প্রেরণ করা করা হয়।
