নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিমানবন্দরে মালামালসহ যাতায়াতের সুবিধার্থে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালু হলো বিশেষ শাটল বাস সার্ভিস।
বুধবার (২৬ জুন) ফিতা কেটে বিআরটিসির এই বিমানবন্দর শাটল বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ( বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান, বিআরটিসি চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপটেন মো. কামরুল ইসলাম।
জানা গেছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিসি) এই শাটল বাস সার্ভিস বিমানবন্দরের টার্মিনাল, উত্তরা জসিম উদ্দিন এভিনিউ ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনকে কেন্দ্র করে চক্রাকারে ঘুরবে। আপাতত দুটি বাস দিয়ে এই সার্ভিস চালু হলেও পর্যায়ক্রমে বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
এই বাস সার্ভিস সম্পর্কে বিআরটিসি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, যাত্রীদের সেবা দিতে এর আগে আমরা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল কানেকটিভিটি ও চট্টগ্রামে পর্যটন বাস চালু করেছি। এর ধারাবাহিকতায় বিআরটিসির এই বিমানবন্দর শাটল বাস সার্ভিস চালু করা হলো। যেন শ্রমজীবী প্রবাসী কর্মীরা, যারা আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা তারা যেন লাগেজ নিয়ে সহজেই বিমানবন্দরে যাতায়াত করতে পারেন তাদের জন্যই মূলত এই সার্ভিস চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব শ্রমজীবী কর্মী অনেক সময় বিমানবন্দরে তাদের সঙ্গে থাকা লাগেজ নিয়ে যানবাহনের অভাবে বিপাকে পড়েন। তাদের এই সমস্যা দূর করতেই বিআরটিসির এই বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান- এই শাটল বাসে যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত লাগেজ কম্পার্টমেন্ট রয়েছে। সেখানে তারা ৪০ থেকে ৫০ কেজি পর্যন্ত মালামাল রাখতে পারবেন। বর্তমানে আমরা এই সার্ভিসে দুটি বাস চালু করেছি, চাহিদার ভিত্তিতে পরবর্তীতে আরও বাস সংযোজন করা হবে।
এর আগে বিআরটিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়- প্রবাসী, রেমিট্যান্স যোদ্ধা, দেশি ও বিদেশি পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাতায়াত ও লাগেজ সামগ্রী পরিবহনের সুবিধার্থে বিআরটিসি বিমানবন্দরে শাটল বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এই পরিষেবার মাধ্যমে বিমানবন্দরের যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে তাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারবে। এই বাসটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, রয়েছে যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত লাগেজ পরিবহনের সুবিধা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ফ্রি ওয়াই-ফাই এবং প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের বাসে উঠা নামার বিশেষ ব্যবস্থাও। গাজীপুরস্থ সমন্বিত কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানায় বিআরটিসি নিজস্ব কারিগরি দক্ষতায় প্রাথমিকভাবে ২টি বিশেষ শাটল বাস দিয়ে রুটটি চালু করা হলো।
প্রাথমিকভাবে বাস দুটি বিমানবন্দর টার্মিনাল-২ থেকে যাত্রা শুরু করে বিমানবন্দর গোলচত্বর থেকে উত্তরা জসীমউদ্দীন রোড হয়ে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন হয়ে বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ হয়ে বিমানবন্দর গোলচত্বর দিয়ে আবারো বিমানবন্দর টার্মিনাল-২ পর্যন্ত আসবে।
