আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ব্যাপক গণহত্যা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নির্বিচারে বোমা হামলায় মঙ্গলবার অন্তত ১০৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩২ জন সাহায্য নিতে গিয়ে প্রাণ হারান। এছাড়া সাত শিশুসহ ২১ জন দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় পানি নেওয়ার লাইনে মারা যান।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, আল-আফ পরিবারের বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় ১০ জন নিহত হন। যাদের বেশিরভাগ নারী ও শিশু।
লক্ষ্যবস্তু হামলা এবং অনাহারের দ্বৈত হুমকির মুখে ফিলিস্তিনিরা বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহারে মারা গেছেন আরও ১৩ জন। এ নিয়ে ক্ষুধাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬১ জনে। ত্রাণ সরবরাহে ভাটা পড়ায় দুর্ভিক্ষ আরও মারাত্মক রূপ নিচ্ছে।
মঙ্গলবার ইসরায়েলি হামলায় আরও দুই সাংবাদিকও নিহত হয়েছেন। তারা হলেন- আল-মানারা’র রসমি সালেম ও ইমান আল-জামলি।
এ নিয়ে সাংবাদিকদের মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২৭০ জনের বেশি।
এ অবস্থায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলছেন, গাজা দখলের জন্য ‘নির্ণায়ক পর্যায়ে’ তারা রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরায়েল গাজার ওপর হামলা বেশি জোরদার করেছে এবং সীমিত মানবিক সাহায্যও বন্ধ করেছে।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাপ্রধান এয়াল জামির জানিয়েছেন, স্থল অভিযান আরও তীব্র হবে।
এদিকে হুথি জানিয়েছে, তাদের বাহিনী ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে, ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেলজিয়ামের ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতিকে স্বাগত জানিয়ে, অন্যান্য দেশকেও একই পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ‘উদাসীনতা’ এবং গাজার অর্থনৈতিক ধ্বংস ও কর রাজস্ব দখলের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা জরুরি আর্থিক সহায়তা চাইছে যাতে নাগরিকরা তাদের ভূমিতে টিকে থাকতে পারে।
