আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা: নাতানজ, এসফাহান এবং ফোরদোতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, ফোর্ডোতে ছয়টি বাঙ্কার ধ্বংসকারী বোমা ফেলা হয়েছে এবং অন্যান্য পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে ৩০টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান। ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাথমিকভাবে আনুমানিক ৩০টি রকেট ছোড়া হয়েছে ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব হামলা মূলত ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোর দিকে চালানো হয়েছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি, তবে এমন ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ফোরদো, নাতানজ ও ইসফাহান এলাকায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ‘সফল’ হামলা চালিয়েছে। তার কিছুক্ষণ পর থেকেই ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাল্টা হামলা শুরু হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে যদি কূটনৈতিকভাবে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ না নেওয়া হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানে চালানো এ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান অংশ নিয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘আমরা ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা—ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহানে—খুবই সফলভাবে হামলা সম্পন্ন করেছি। সব বিমান এখন ইরানের আকাশসীমার বাইরে।’
এদিকে এসব পারমাণবিক স্থাপনায় কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ নেই বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরএনএ।
দেশটির সরকারি সম্প্রচার সংস্থার একজন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে আইআরএনএ জানিয়েছে, ‘এই তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় এমন কোনো পদার্থ নেই যা তেজস্ক্রিয়তা সৃষ্টি করে।’
