আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েলের মাটিতে নিজেদের শক্তির আরেকবার জানান দিল তেহরান। ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। শনিবার রাতের হামলায় পুরো ইসরায়েলে সাইরেন বেজে উঠেছে। জেরুজালেম ও হাইফা শহরের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র দেখা গেছে। এবারের হামলায় ড্রোনের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা। কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি বলছে, ‘ট্রু প্রমিজ ৩’ অভিযানের দ্বিতীয় ধাপে ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে ইসরায়েলে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হাইফা এবং কিরিয়াত এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাটিতে আঘাত করেছে না কি বাধা দেওয়া হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম বলছে, এখন পর্যন্ত ১৪ জন হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। হতাহতদের মধ্যে একজন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (১৩ জুন) হিব্রু মিডিয়া জানিয়েছে, হাইফার পূর্বে উত্তরাঞ্চলীয় শহর তামরায় একটি দোতলা বাড়িতে ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যার ফলে একজন মহিলা নিহত এবং ১৩ জন আহত হন। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, তেল আবিব থেকে সরাসরি ফুটেজে ইসরায়েলি শহরের উপর কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইন্টারসেপ্টর দেখেছে তাদের প্রতিবেদক। প্রতিশোধমূলক ইরানের এই আক্রমণ শুরু করার সাথে সাথে জরুরিভাবে সুরক্ষিত স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে ইসরায়েলিরা।
এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে যে, তাদের বিমান বাহিনীও বর্তমানে তেহরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার তৎপরতা চলছে।
ইসরায়েলের ফায়ার সার্ভিস বলছে, তারা দেশের উপকূলীয় এবং উত্তরাঞ্চলে বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও আগুন লাগার ঘটনা দেখেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, এবার আক্রমণটি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে করা হয়েছে। হাইফা এবং তেল আবিবকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হবে। জর্ডানের রাজধানী আম্মানেও সাইরেন শোনা গেছে। জর্ডান এখন তার আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।
