স্পোর্টস ডেস্ক
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ শনিবার থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচ। ম্যাচের প্রথম দিনেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের অবিশ্বাস্য এক সেঞ্চুরি উপহার দিলেন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস। দলের চরম বিপর্যয়ে ত্রাতার ভূমিকা পালন করে লিটন খেলেছেন ১২৬ রানের এক ঝলমলে ইনিংস। তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের একাদশ সেঞ্চুরির ওপর ভর করেই প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ।
এদিন টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিক দল। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই কোনো রান না করে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর দলীয় ৪৪ রানে আউট হন অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তিনি ৩৪ বলে ২৬ রান করেন।
এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। ঢাকা টেস্টে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ব্যাটাররা আজ বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। সবশেষ পাঁচ ইনিংসে ফিফটি হাঁকানো টেস্ট স্পেশালিস্ট মুমিনুল হক সৌরভ আজ ২২ রানের বেশি করতে পারেননি। ঢাকা টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বিদায় নেন মাত্র ২৯ রান করে। দলীয় ১০৫ রানে সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও ২৩ রানে সাজঘরের পথ ধরেন। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজের দ্রুত বিদায়ে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটে রান না পাওয়া এই অলরাউন্ডার আজ ৬ বলে মাত্র ৪ রান করে আউট হন। এর ফলে ১১৬ রানেই ৬ স্বীকৃত ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে দেড়শো রানের আগেই গুটিয়ে যাওয়ার ঘোর শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ।
ছয় উইকেট পতনের পর লেজের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে একাই অবিশ্বাস্য লড়াই শুরু করেন লিটন দাস। সপ্তম উইকেটে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়েন ৬০ রানের গুরুত্বপূর্ণ এক পার্টনারশিপ। ৪০ বলে ১৬ রান করে তাইজুল আউট হলে অষ্টম উইকেটে পেসার তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে লিটন যোগ করেন আরও ৩৮ রান। ২১৪ রানে অষ্টম উইকেটের পতনের পর নবম উইকেটে শরীফুল ইসলামের সঙ্গে জুটি বেঁধে লিটন আরও ৬৬ রান যোগ করেন। এই জুটির কল্যাণেই দল তিনশর কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
ব্যক্তিগত ১৫৯ বলে ১৬টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ১২৬ রান করার পর হাসান আলীর একটি বাউন্সি বলে বাউন্ডারি মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে আউট হন লিটন। এটি তার ৫৪তম টেস্টে ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। দলীয় ২৭৮ রানে লিটন আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসা নাহিদ রানা কোনো রান না করেই বিদায় নিলে ২৭৮ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। পাকিস্তানের পক্ষে বল হাতে দারুণ সফল ছিলেন খুররম শাহজাদ, তিনি নেন ৪টি উইকেট। এছাড়া মোহাম্মদ আব্বাস ৩টি এবং হাসান আলী ২টি উইকেট শিকার করেন।
