আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপাল-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক ঢলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগের ৪৮ ঘণ্টা পর শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপালের পুলিশের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
গত বুধবার সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় হঠাৎ ভয়াবহ ঢল নামে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বহু মানুষ প্রাণ হারান। এখনো শত শত বিদেশি নাগরিকসহ ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত অংশে এখনো ৫৫৮ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও ধ্বংসস্তূপ ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকারীদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
রেডক্রসের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এলাকায় দ্বিতীয় দফায় বন্যা আঘাত হানতে পারে। এ আশঙ্কায় জীবিতদের সন্ধানে কাজ করা উদ্ধারকারীরা উদ্বিগ্ন ও সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।
এদিকে সীমান্তের কাছে অতিরিক্ত পানি জমে একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। হ্রদটির পানি উপচে পড়লে নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
দুর্যোগটির প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো বিশ্লেষণ চলছে। তবে রয়টার্স ও কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, লাংটাং লিরুং পর্বতের উত্তর ঢাল থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথরের ধস নেমে নদীতে পড়ে।
এর ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ সাময়িকভাবে আটকে গিয়ে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়। পরে সেই বাঁধ ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ পানি, বরফ, পাথর ও কাদার স্রোত প্রবল বেগে ভাটির দিকে নেমে আসে। এতে সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়।
উদ্ধারকাজের পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
