আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুদ্ধ, অবরোধ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে অর্থনীতি সংকটে থাকায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান সরকার। দেশটির কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে জ্বালানিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। তবে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে এই ভর্তুকির চাপ সরকারের জন্য ক্রমেই বাড়ছে। ফলে জ্বালানির দাম পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ।
ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ জানিয়েছেন, সবচেয়ে কম দামের জ্বালানি সরবরাহের স্তর এবং ৬০ লিটারের মাসিক কোটা আপাতত বহাল থাকবে। তবে দ্বিতীয় স্তরের কোটা ধীরে ধীরে কমানো হতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত জ্বালানির দাম বাজারভিত্তিক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের জ্বালানি অপ্টিমাইজেশন বিভাগের প্রধান ইসমাইল সাঘাব-এশফাহানি জ্বালানির দাম নিয়ে তিনটি সম্ভাব্য বিকল্পের কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত কোটার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ, সব নাগরিকের জন্য কম দামে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি বরাদ্দ এবং শেষ পর্যন্ত সবার জন্য জ্বালানির দাম উন্মুক্ত করে দেওয়া।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার প্রতি লিটার জ্বালানির দাম ৮ লাখ ৭২ হাজার রিয়াল পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এতে পরিবহন ও পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরানে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ লিটার জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। বিপরীতে চলতি মাসের শুরুতে দেশটির দৈনিক উৎপাদন ছিল প্রায় ১২ কোটি ১০ লাখ লিটার। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানিও বন্ধ রয়েছে।
এদিকে দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের পরিসংখ্যান কেন্দ্রের জুলাইয়ের হিসাবে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে পণ্যের দাম ৮৮ শতাংশ বেড়েছে। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ছাড়িয়েছে ১২৮ শতাংশ।
এ অবস্থায় জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে পরিবহন ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ। ফলে সিদ্ধান্তটি নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে ব্যাপক জনঅসন্তোষের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।
