আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে নথিবিহীন অভিবাসীদের জন্য আগে উন্মুক্ত থাকা কিছু ফেরতযোগ্য কর সুবিধা বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ফলে সরকারি কোষাগারে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অনুমোদন ছাড়া বসবাসকারী অভিবাসীরা নির্দিষ্ট কিছু ফেরতযোগ্য কর সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পেতেন। এসব সুবিধা সাধারণ কর ছাড়ের চেয়ে ভিন্ন। কোনো ব্যক্তির ফেডারেল করের দায় কম বা না থাকলেও ফেরতযোগ্য কর সুবিধার মাধ্যমে তিনি সরাসরি অর্থ পেতে পারেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতির লক্ষ্য হলো এসব সুবিধা নথিবিহীন অভিবাসীদের নাগালের বাইরে রাখা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, করদাতাদের অর্থ নাগরিক ও বৈধভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিদের জন্যই বরাদ্দ থাকা উচিত।
তবে কোন কোন কর সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ করা হবে এবং ঠিক কোন সময় থেকে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, সেটিও একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক সময়ের সম্ভাব্য হিসাব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিবাসনবিষয়ক বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নথিবিহীন অভিবাসীদের জন্য সরকারি আর্থিক সুবিধা সীমিত করার ওপরও জোর দিচ্ছে।
২০২৬ সালের শুরুতে আবাসন ও নগর উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী স্কট টার্নারও অভিবাসন ও আবাসন ব্যয়ের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভাড়ার চাহিদা বৃদ্ধির একটি বড় অংশ বিদেশে জন্ম নেওয়া জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করা হয়। ওই তথ্য ব্যবহার করে তিনি মার্কিন নাগরিকদের আবাসন ব্যয় কমাতে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও বহিষ্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দেন।
নতুন করনীতি তাই শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা বা আইন প্রয়োগের বিষয় নয়; এর মাধ্যমে নথিবিহীন অভিবাসীদের অর্থনৈতিক সুবিধা সীমিত করার দিকেও প্রশাসনের নজর স্পষ্ট হচ্ছে। সরকারের ধারণা, সরকারি আর্থিক সহায়তা কমিয়ে নথিবিহীন অভিবাসনের অর্থনৈতিক প্রভাবও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ী বসবাসের পর নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে একজন বিদেশি নাগরিককে প্রথমে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড অর্জন করতে হয়। সাধারণ ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে অন্তত পাঁচ বছর বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে থাকার শর্ত রয়েছে।
