আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখেরও বেশি শিশু তাদের বাবা-মা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মার্কিন থিংক ট্যাংক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের এক নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বিচ্ছিন্ন হওয়া এসব শিশুর প্রায় তিন-চতুর্থাংশই (৭৫%) যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ নাগরিক।
গবেষকদের এই পরিসংখ্যানটি মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দেওয়া অফিশিয়াল রিপোর্টের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। গবেষকদের দাবি, সরকারি তথ্য সংগ্রহের ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতির কারণে মূল সংখ্যাটি আড়ালে রয়ে গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের আলোচিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির চেয়েও বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনেক বেশি। সে সময় সীমান্ত পার হওয়ার পর প্রায় ৫ হাজার ৫০০ শিশুকে বাবা-মা থেকে আলাদা করা হয়েছিল। কিন্তু এবার খোদ দেশের অভ্যন্তরে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ লাখ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করায় এই বিচ্ছিন্নতার হার ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ নথিপত্রহীন বা অস্থায়ী বাসিন্দা রয়েছেন, যারা যেকোনো সময় বহিষ্কারের ঝুঁকিতে আছেন। বিভিন্ন সংস্থার হিসাব মতে, প্রায় ৫০ লাখ শিশু এমন পরিবারে বাস করছে যাদের বাবা-মার অন্তত একজন অবৈধ অভিবাসী। আর এই শিশুদের মধ্যে ৪০ লাখেরও বেশি জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক।
অভিবাসন বিভাগের দাবি, গ্রেপ্তারের পর বাবা-মাদের সুযোগ দেওয়া হয় যেন তারা সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে দেশ ছাড়েন অথবা কোনো অভিভাবকের কাছে রেখে যান। তবে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার সংস্থাগুলোর মতে, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব শিশু বড় ভাই-বোন বা এমন কোনো চেনা মানুষের কাছে আশ্রয় পাচ্ছে, যারা নিজেরাও আর্থিক সংকট বা ইমিগ্রেশন ঝুঁকিতে ভুগছেন। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই শিশুদের ভবিষ্যৎ বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়ছে।
গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন নতুন বিলের মাধ্যমে অভিবাসী আটক কেন্দ্র সম্প্রসারণে ৪৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়ায় আগামী মাসগুলোতে পরিবার থেকে শিশু বিচ্ছিন্ন হওয়ার এই সংখ্যা আরও মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
