প্রবাস ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারসংক্রান্ত একটি বিতর্কিত আইনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধারা স্থগিত করেছেন দেশটির এক ফেডারেল বিচারক। বৃহস্পতিবার দেওয়া এ রায়ে বলা হয়েছে, অঙ্গরাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে নিজেদের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
অস্টিনভিত্তিক ফেডারেল জেলা বিচারক ডেভিড এজরা এক প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে জানান, টেক্সাসের এই আইন যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিবাসন, নাগরিকত্ব ও বহিষ্কারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারের এখতিয়ারের বিষয়, ফলে কোনো অঙ্গরাজ্য আলাদাভাবে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না।
বিতর্কিত এই আইনটি টেক্সাস প্রশাসনকে এমন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের সুযোগ দিত, যাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রমের সন্দেহ রয়েছে। পাশাপাশি কিছু ধারায় অঙ্গরাজ্যের বিচারকদের বহিষ্কারাদেশ দেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছিল। এমনকি আগে বহিষ্কৃত হয়ে পরে বৈধ অনুমতি বা স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এই আইন কার্যকর হলে হাজার হাজার অভিবাসী অনিশ্চয়তা ও হয়রানির মুখে পড়তেন। এ কারণে নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষাকারী কয়েকটি সংগঠন আদালতে মামলা করে। আদালত সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই অন্তর্বর্তীকালীন এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
টেক্সাসের রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন প্রশাসন বরাবরই কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে আদালতের সাম্প্রতিক এই রায় কেন্দ্রীয় সরকার ও অঙ্গরাজ্যের ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। অভিবাসন অধিকারকর্মীরা রায়কে সংবিধান ও মানবাধিকারের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
