নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী
ফেনী সদর উপজেলায় নিজের নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে এক প্রবাসীর স্ত্রীর বালিচাপা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই গৃহবধূর নাম রিনা আক্তার (৪০)। মঙ্গলবার (১২ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের চোছনা গ্রাম থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তাকে নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে বালুর নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। নিহত রিনা আক্তার ওই গ্রামের প্রবাসী মোহাম্মদ মানিকের স্ত্রী। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জননী ছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রিনা আক্তার তার স্বামীর কেনা জমির পাশে একটি ভাড়া বাসায় সন্তানদের নিয়ে থাকতেন। পাশেই তাদের নতুন বাড়ির নির্মাণ কাজ চলছিল। মঙ্গলবার বিকেলে রিনা আক্তার নির্মাণাধীন ঘরে পানি দিতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। দীর্ঘ সময় মাকে না পেয়ে ছোট ছেলে রাজু তাকে খুঁজতে বের হয়। একপর্যায়ে নির্মাণাধীন বাড়ির মেঝের এক কোণে বালুর স্তূপের ভেতর মায়ের নিথর দেহ দেখতে পায়। পরে তার ডাকচিৎকারের প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
নিহতের স্বজন আকলিমা আক্তার বলেন, রিনাকে কেউ হত্যা করে মরদেহ বালুর নিচে চাপা দেয়ার চেষ্টা করেছে। তিনি প্রতিদিনের মতো আজও নির্মাণাধীন ঘরে পানি দিতে গিয়েছিলেন। তাকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ছোট ছেলে রাজু তার বোনকে জানায়। পরে তারা সেখানে গিয়ে মায়ের মরদেহ বালুর স্তূপে দেখতে পায়।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মু. সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিশাত তাবাসসুম, ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাইফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
