প্রবাস ডেস্ক
কানাডার কেন্দ্রীয় সরকার অস্থায়ী বাসিন্দাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দিতে একটি বিশেষ উদ্যোগের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে, যা বর্তমানে ‘টিআর টু পিআর’ পাথওয়ে হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ৪ মে প্রকাশিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এই প্রকল্পের আওতায় যারা ইতিমধ্যে নির্দিষ্ট কিছু কর্মসূচির মাধ্যমে আবেদন করেছেন এবং অন্তত দুই বছর ধরে কানাডার ছোট ছোট জনপদে বসবাস করছেন, তাদের আবেদনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। অভিবাসন দপ্তর স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, আবেদনকারীদের নতুন করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই; বর্তমানে জমা থাকা আবেদনগুলোর মধ্য থেকেই যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে।
এই বিশেষ উদ্যোগটি মূলত ২০২৫ সালের বাজেটে প্রথম ঘোষণা করা হয়েছিল, যার লক্ষ্য হলো ২০২৬ এবং ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় ৩৩ হাজার অস্থায়ী কর্মীকে স্থায়ী আবাসন প্রদান করা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষ করে যারা প্রাদেশিক মনোনীত কর্মসূচি, আটলান্টিক অভিবাসন প্রকল্প, গ্রামীণ ও ফরাসি ভাষাভাষী সম্প্রদায়ের অভিবাসন পাইলট প্রকল্প এবং কৃষি ও সেবা খাতে আবেদন করেছেন, তাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার মূলত গ্রামীণ এলাকার শ্রমবাজারের ঘাটতি পূরণ এবং নির্দিষ্ট কিছু জরুরি খাতে দক্ষ জনবল ধরে রাখতেই এই ত্বরান্বিত প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই এই উদ্যোগের অধীনে প্রায় ৩,৬০০ কর্মীকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রার ১৮ শতাংশ। সরকার আশাবাদী যে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ অন্তত ২০ হাজার কর্মীকে এই প্রক্রিয়ায় স্থায়ী নাগরিকত্ব দেওয়া সম্ভব হবে এবং বাকিদের প্রক্রিয়া ২০২৭ সালে সম্পন্ন হবে। এই কর্মসূচিটি সরকারের সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ, যার মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে কানাডার মোট জনসংখ্যার বিপরীতে অস্থায়ী বাসিন্দার হার পাঁচ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অভিবাসন মন্ত্রী লেনা মেটলেজ ডিয়াব সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, এই সুবিধাটি বড় বড় মহানগরগুলোর বাইরে থাকা কর্মীদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বড় শহরের ওপর চাপ কমিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। উল্লেখ্য যে, ইতিমধ্যে অনেক আবেদনকারী এই প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় থাকাকালীন ‘ব্রিজিং ওপেন ওয়ার্ক পারমিট’ এর সুবিধাও ভোগ করছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে কানাডা সরকারের নীতিমালায় গ্রামীণ অভিবাসনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর আগে গ্রামীণ এলাকার নিয়োগকর্তাদের জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগের সীমাবদ্ধতা শিথিল করা হয়েছিল, যাতে তারা তাদের শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ অস্থায়ী বিদেশি কর্মীদের মাধ্যমে পূরণ করতে পারেন। মূলত গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকার অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে এবং শ্রমবাজারের দীর্ঘমেয়াদি শূন্যতা পূরণ করতেই কেন্দ্রীয় সরকার এই কৌশলী ও ত্বরান্বিত অভিবাসন পদ্ধতি অনুসরণ করছে।
