আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত দেশগুলোর নাগরিকদের ওপর আরোপিত অভিবাসন স্থগিতাদেশ থেকে চিকিৎসকদের আংশিক ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বিদেশি চিকিৎসকদের ভিসা ও গ্রিন কার্ড নবায়ন প্রক্রিয়া পুনরায় গতি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গত বছর থেকে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে আফগানিস্তান, ইরান এবং ভেনেজুয়েলাসহ ৩৯টি দেশের নাগরিকদের আবেদন পর্যালোচনা স্থগিত রেখেছিল মার্কিন প্রশাসন। চলতি বছর এই তালিকায় আরও ৭৫টিরও বেশি দেশের নাগরিকদের কিছু নির্দিষ্ট আবেদন অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি করে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন ও অভিবাসন আইনজীবীদের জোরালো দাবি। তারা যুক্তি দেখিয়েছেন যে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসকের তীব্র সংকট চলছে এবং বিদেশি চিকিৎসকরা বিশেষ করে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছেন।
এই বাস্তবতাকে আমলে নিয়েই প্রশাসন চিকিৎসকদের আবেদনগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই ছাড়ের মানেই আবেদন মঞ্জুর হওয়া নয়; বরং আবেদনগুলো কেবল পর্যালোচনার টেবিলে ফিরবে। এটি এখনও অস্পষ্ট যে এই আবেদনগুলো কত দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।
চিকিৎসকদের জন্য এই স্বস্তির খবর এলেও অন্যান্য পেশার হাজার হাজার অভিবাসীর ভাগ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাদের ওপর আগের মতোই কঠোর স্থগিতাদেশ বজায় রয়েছে। এর ফলে অনেক দক্ষ পেশাজীবী বর্তমানে কাজ করতে পারছেন না, এমনকি স্বাস্থ্যবিমা বা ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার মতো মৌলিক সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেকের মধ্যে এই ভয়ও কাজ করছে যে, একবার দেশ ছাড়লে তারা আর পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে পারবেন কি না।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে ইরানি চিকিৎসক ড. জোহরা শুকরি ভারনিয়াব জানান, তার আবেদনটি স্থবির হয়ে পড়ার পর তিনি আদালতে মামলা করেছিলেন। আদালতের নির্দেশে আবেদনটি পুনরায় পর্যালোচনা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। তার ধারণা, আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই হয়তো তাকে এই পরিণতির শিকার হতে হয়েছে।
একই সংকটে পড়া ইরানি গবেষক কাভে জাভানশিরজাভিদ নিজের হতাশা প্রকাশ করে জানান, কর্মসংস্থানের অনুমতি না পাওয়ায় তিনি এখনো চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি, যা তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনকে পুরোপুরি থমকে দিয়েছে।
