আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের একটি নিরব আইন পরিবর্তনের ফলে দেশটির হাজার হাজার অভিবাসী কৃষি শ্রমিকের মাসিক আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাচ্ছে। নতুন এই নিয়মে যেসকল শ্রমিক নিয়োগকর্তার কাছ থেকে আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন, তাদের প্রতি ঘণ্টার মজুরি ২ থেকে ৩ ডলার পর্যন্ত কমিয়ে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মজুরি হ্রাসের নতুন কৌশল: ‘ডাউনওয়ার্ড কম্পেনসেশন অ্যাডজাস্টমেন্ট’
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ এই পরিবর্তনটিকে সরাসরি ‘মজুরি হ্রাস’ বা ‘পে-চেক ডিডাকশন’ বলতে নারাজ। এর পরিবর্তে তারা একে “ডাউনওয়ার্ড কম্পেনসেশন অ্যাডজাস্টমেন্ট” বা ‘নিম্নমুখী ক্ষতিপূরণ সমন্বয়’ হিসেবে অভিহিত করছে। ফলে শ্রমিকদের পে-চেক থেকে কোনো টাকা কাটার হিসাব দৃশ্যমান হবে না, বরং তাদের মূল মজুরিই আগে থেকে কমিয়ে নির্ধারণ করা হবে।
কলোরাডো এবং অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের চিত্র
ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৩,৫০০ জন H-2A ভিসাভুক্ত মৌসুমী শ্রমিকের ওপর পড়তে শুরু করেছে।
মজুরির পার্থক্য: গত বছর কলোরাডোর একজন শ্রমিক যেখানে ঘণ্টায় ১৭.৮৪ ডলার পেতেন, এই বছর তা কমে ১৫.১৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ন্যূনতম মজুরি সুরক্ষা: কলোরাডোর নিজস্ব ন্যূনতম মজুরি আইন থাকার কারণে শ্রমিকরা অন্তত ১৫.১৬ ডলার পাচ্ছেন। তবে যেসব অঙ্গরাজ্যে এই সুরক্ষা নেই, সেখানে শ্রমিকদের মজুরি ঘণ্টায় ৯ ডলারে নেমে আসতে পারে।
নিয়োগকর্তাদের দ্বিধাবিভক্ত অবস্থান
সব নিয়োগকর্তা এই নতুন নিয়ম মানছেন না। কিছু খামার মালিক বলছেন, মজুরি না কমিয়েও তারা মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম। তবে বড় খামারগুলোর মালিকরা ভিন্ন মত পোষণ করছেন। তাদের মতে, উৎপাদনের ৮৫ শতাংশ খরচই শ্রম খাতে চলে যায়, তাই খরচ কমাতে এই সমন্বয় প্রয়োজন। তাদের দাবি, আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায় শ্রমিকরা কম মজুরিতেও সন্তুষ্ট।
শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিভ্রান্তি
অনেক শ্রমিক যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে এই কম মজুরির বিষয়ে কিছুই জানতেন না। মেক্সিকোর মন্টেরিতে মার্কিন কনসুলেটে গিয়ে চুক্তি সই করার সময় তারা এই বেতন হ্রাসের খবর পান। অনেক শ্রমিক হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন, আবার অনেকে অভাবের তাড়নায় বাধ্য হয়েই কাজে যোগ দিচ্ছেন।
শ্রমিক অধিকার রক্ষা কর্মীদের মতে, এই পদ্ধতি ‘অন্যায্য’। অন্যদিকে ‘অ্যাডভার্স ইফেক্ট ওয়েজ রেট’-এর জটিল কাঠামো অনুযায়ী মজুরি নির্ধারণের এই প্রক্রিয়াটি স্থানীয় আমেরিকান কর্মীদের মজুরির ভারসাম্য রক্ষার জন্য করা হয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। তবে এই জটিল মারপ্যাঁচে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হাড়ভাঙা খাটুনি খাটা অভিবাসী শ্রমিকরাই।
