আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বর্তমান অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর হেফাজতে থাকা অভিবাসীদের মৃত্যুর সংখ্যা সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ২৯ জন অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন, যা ২০০৪ সালের ২৮ জনের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক মৃত্যু ও তদন্ত
সর্বশেষ নিহতের নাম আলেদ ড্যামিয়েন কার্বোনেল-বেটানকোর্ট (২৭)। এই কিউবান যুবক গত ১৬ এপ্রিল মিয়ামির একটি কেন্দ্রে মারা যান। আইসিই-এর প্রাথমিক প্রতিবেদনে একে “সম্ভাব্য আত্মহত্যা” বলা হলেও তদন্ত এখনো চলমান। ২০২৪ সালে মানবিক কারণে ‘প্যারোল’-এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর একটি সহিংস ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করে আইসিই-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
আটক সংখ্যা ও প্রশাসনিক অবস্থান
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে আটকের হার বাইডেন প্রশাসনের প্রথম বছরের তুলনায় ৭০% বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৬০,০০০ মানুষ অভিবাসন হেফাজতে রয়েছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, রেকর্ড সংখ্যক মানুষ হেফাজতে থাকার কারণেই মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও তাদের দাবি অনুযায়ী মৃত্যুর হার মাত্র ০.০০৯%।
বিদায়ী আইসিই পরিচালক টড লিয়ন্স কংগ্রেসের শুনানিতে বলেন, “আমরা কারো মৃত্যুই কাম্য মনে করি না।” তিনি জানান, গত অর্থবছরে বন্দিদের চিকিৎসার জন্য প্রায় ৫০ কোটি ডলার ব্যয় করা হয়েছে। তবে নথিপত্র অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর তথ্য প্রকাশে আইসিই বিলম্ব করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটররা।
টেক্সাস ও ক্যালিফোর্নিয়ার পরিস্থিতি
ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাডেলাান্তো এবং টেক্সাসের ক্যাম্প ইস্ট মন্টানা কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আত্মহত্যার পাশাপাশি লিভার ও কিডনি অকেজো হওয়ার মতো ঘটনাও সামনে এসেছে। বিশেষ করে, ক্যাম্প ইস্ট মন্টানায় জেরাল্ডো লুনাস ক্যাম্পোস নামক এক ব্যক্তির মৃত্যুকে চিকিৎসাধীন মৃত্যু দাবি করা হলেও পরবর্তীতে ময়না তদন্তে তাকে ‘শ্বাসরোধ করে হত্যা’র প্রমাণ পাওয়া গেছে। বর্তমানে এফবিআই এই ঘটনার তদন্ত করছে।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, আটক সংখ্যা অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বিপরীতে পর্যাপ্ত তদারকির অভাবেই অভিবাসীদের জীবন এভাবে ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
