নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেটে পর্নোগ্রাফি মামলায় হাফিজ শাকির আহমদ নামে যুক্তরাজ্যের একটি মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ওই ইমাম সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। স্থানীয় বাসিন্দা ও ইমামের স্বজনরা মামলাটি ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন। তবে ভুক্তভোগীর স্বজনরা দাবি করেছেন, তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই তারা মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রমাণ সঠিক, না বানানো– জানতে বিশেষজ্ঞ মতামত চাওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর সোবহানীঘাট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। প্রবাসী ইমামকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও এজাহার থেকে জানা গেছে, দীর্ঘ এক যুগ ধরে যুক্তরাজ্যের ড্যাগেনহাম মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাফিজ শাকির আহমদ। তিনি সিলেট নগরীর যতরপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবা স্থানীয় একটি মসজিদে ৫০ বছর ধরে ইমামতি করে আসছেন।
সম্প্রতি শাকিরের বিরুদ্ধে নগরীর ধোপাদিঘির পাড়ের বাসিন্দা এক নারী পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় গত ১০ এপ্রিল কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, শাকিল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিমের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছেন। পরে সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
এদিকে গ্রেপ্তার ইমাম শাকির আহমদের ভাই, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী জাকির আহমদ জানান, তারা দীর্ঘ ২২ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। ভাই শাকির ব্রিটেনের একটি মসজিদে ইমামতি করে আসছেন। যে নারী মামলা করেছেন, তিনি পূর্বপরিচিত। তাদের পরিবারকে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করেছেন। ওই নারীর বিয়েও হয়েছে অনেক আগে। এখন ষড়যন্ত্র করে তাঁর ভাইকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
ইমামের স্ত্রী আমিনা খাতুন দাবি করেন, তাঁর স্বামী এমন কাজ করতে পারেন না। যে ভিডিও দেখানো হয়েছে, সেই ভিডিওতে তাঁর স্বামীর কোনো দৃশ্য নেই। এটা ষড়যন্ত্রমূলক।
এ বিষয়ে যতরপুর এলাকার স্থানীয়রা, শাকিরের পরিবারটি ধার্মিক। তারা প্রায়ই দেশে আসেন। সর্বশেষ গত ২১ মার্চ স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে দেশে আসেন। আসার পর মামলায় শাকির গ্রেপ্তার হলে তারা বিষয়টি জানতে পারেন।
জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, মামলার প্রেক্ষিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভিডিওতে ইমাম সাহেবকে দেখা যায়নি। তারপরও প্রাপ্ত প্রমাণ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত ছাড়া সঠিক, না ভুল– বলা যাবে না। ডকুমেন্টগুলো এক্সপার্টের কাছে পাঠানো হয়েছে। আমরা মতামতের অপেক্ষায় আছি।
এদিকে যুক্তরাজ্যের ড্যাগেনহাম মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছানাউর আলী শাকির আহমদের মুক্তি দাবি করে জানিয়েছেন। একই সাথে বিষয়টি সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
