আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বসনিয়া হ্যারৎসেগোভিনার রাজধানী সারায়েভোর কাছাকাছি ব্লাজুজ নামের একটি আশ্রয়কেন্দ্রের পাশে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ছয় জন অভিবাসনপ্রত্যাশী আহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কুরিয়ের দে বলকান এই তথ্য জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, সোমবার (২৬ মে) রাতে অভিবাসীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে গুলির ঘটনা ঘটে। এতে আহত ছয় জন পুরুষ অভিবাসীকে সারায়েভোর মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, বসনিয়া হ্যারৎসেগোভিনায় বর্তমানে চারটি অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে মে মাসে মোট ৫৪৬ জন বাস করছিলেন। এর মধ্যে ব্লাজুজ আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন ৩২৮ জন।
তুরস্ক থেকে শুরু হয়ে বলকান পেরিয়ে পশ্চিম ইউরোপে যাওয়ার পথে বসনিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট দেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, সিরিয়া ও ইরাকসহ বিভিন্ন দেশের অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের জন্য বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করে আসছেন।
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র ক্রোয়েশিয়া অভিবাসীদের ব্যাপারে কঠোর নীতি অনুসরণ করছে। অনিয়মিত পথে আসা অভিবাসীদের তারা নিয়মিতভাবে বসনিয়ায় ফেরত পাঠায়। এ বিষয়ে সারায়েভোর সঙ্গে দেশটির একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও রয়েছে।
২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি ক্রোয়েশিয়া শেঙেন জোনে যুক্ত হওয়ার পর সীমান্ত অতিক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
বসনিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো ২০২৩ সালের মার্চে জানায়, বাসে করে অভিবাসীদের ক্রোয়েশিয়া থেকে ফেরত পাঠানোর ঘটনাও ঘটেছে। অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী অভিযোগ করেছেন, তাদের জোরপূর্বক একটি ডকুমেন্টে স্বাক্ষর করিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যার ভাষা তারা বুঝতেন না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বসনিয়া হয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যাত্রার সংখ্যা কমেছে। ২০২৩ সালে ৩৪ হাজার ৪০০ জন বসনিয়ায় প্রবেশ করলেও, ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা নেমে আসে ২৫ হাজারে।
আর ২০২৫ সালের শুরু থেকে মে মাস পর্যন্ত বসনিয়ায় অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করেছে মাত্র তিন হাজার বিদেশি অভিবাসী।
সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস।
