নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী
ফেনী জেলার পূর্ব ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ৬টি পরিবারের ২৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে জোরপূর্বক পুশইন করেছে ভারতের সীমন্তরক্ষী বিএসএফ।
পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ২৪ জনকে আটক করে। এই সীমান্ত অঞ্চলটি ফেনীর জোসপুর ও খেজুরিয়া বিওপির দায়িত্বাধীন।
পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা প্রত্যেকেই কুড়িগ্রামের বাসিন্দা বলে প্রাথমিক ভাবে জানা যায়। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে ২২ মে আনুমানিক ভোররাত ৪টার দিকে এই পুশইনের ঘটনা ঘটে এবং তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
এর আগে গত ৭ মে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা ও পানছড়ি সীমান্ত দিয়ে ৬৬ জন ভারতীয় নাগরিক এবং কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে আরও ৩৬ জন রোহিঙ্গাকে পুশইন করা হয়।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ৯ মে ভোরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পশ্চিম সুন্দরবনের মান্দারবাড়িয়া চরে ৭৮ জনকে রেখে যায়।
এ অবস্থায় সীমান্তে ভারতীয় নাগরিকদের পুশইনের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে দিল্লিকে কূটনৈতিক পত্রও দিয়েছে ঢাকা। গত ৯ মে পত্রটি দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।
পত্রে বলা হয়, পুশইনের পদক্ষেপ গভীর উদ্বেগের, যা চূড়ান্তভাবে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলছে এবং জনমনে নেতিবাচক মনোভাবও তৈরি করছে।
পুশইনের পদক্ষেপ ১৯৭৫ সালের যৌথ ভারত-বাংলাদেশ নির্দেশিকা, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (সিবিএমপি) ২০১১ এবং বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের আলোচনায় দুই পক্ষের পারস্পরিক সম্মত সিদ্ধান্তের পরিপন্থী।
চিঠিতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তির বাংলাদেশি নাগরিকত্বের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বিদ্যমান প্রক্রিয়া মেনে বাংলাদেশ তাদের ফেরত নেবে। এর ব্যত্যয় হলে দুই দেশের বোঝাপড়ার মধ্যে বিঘ্ন সৃষ্টি করবে।
