আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বর্বরতা চলছেই। দখলদার দেশটির হামলায় প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছে বহু ফিলিস্তিনি। বুধবার ভোর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর টানা বোমা ও গোলাবর্ষণে আরও অন্তত ৯৩ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
আহত হয়েছেন আরও আড়াই শতাধিক। এতে করে অবরুদ্ধ এই উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ৫৩ হাজার ৬৫০ ছাড়িয়ে গেছে। একইদিনে পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থী শিবিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে গুলি চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা।
এতে বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় গাজা উপত্যকায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ৫৩ হাজার ৬৫৫ জনে পৌঁছেছে বলে বুধবার জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ৮২ জন, আহত হয়েছেন আরও ২৬২ জন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৯৫০ জনে।
মন্ত্রণালয় জানায়, এখনো বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে ও রাস্তায় আটকে আছেন, কিন্তু উদ্ধারকারী দলগুলো পৌঁছাতে পারছে না। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস বলছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে, কারণ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা হাজারও মানুষের আর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘ বলছে, এই যুদ্ধ শুধু সামরিক নয়, বরং এটি ফিলিস্তিনের সাধারণ জনগণের ওপর এক চরম মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। খাদ্য, পানি, ওষুধ ও জ্বালানির ঘাটতির পাশাপাশি আশ্রয়ের অভাব-সবমিলিয়ে গাজায় চলছে এক ভয়াবহ মানবিক সংকট।
জাতিসংঘ, রেড ক্রসসহ অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার সতর্ক করেছে যে, গাজা এখন ‘মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ’-এর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। ইউনিসেফ বলছে, হাজার হাজার শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে এবং অনেকে অনাহারে মারা যাচ্ছে।
জাতিসংঘের প্রধান মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক সম্প্রতি বলেছেন, “আমরা যে অল্প কিছু সহায়তা গাজায় ঢোকাতে পারছি, তা মোটেই যথেষ্ট নয়। সেখানকার জনগণ বেঁচে থাকার জন্য যেসব মৌলিক জিনিস দরকার-খাদ্য, পানি, চিকিৎসা, নিরাপত্তা-তার একটিও পর্যাপ্তভাবে নেই।”
তিনি বলেন, ‘ক্ষুধার্ত ও নিপীড়িত এই জনসংখ্যার জন্য এখন পর্যন্ত যা যাচ্ছে, তা প্রয়োজনের সামান্য এক ভগ্নাংশ।’ এছাড়া গাজায় ইসরায়েলের এই যুদ্ধকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলাও চলছে।
