শাহ আজমান, ইউকে
যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারী অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে নতুন অভিবাসন নীতি গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার। সরকারের প্রস্তাবিত নতুন অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। নার্স, বিশ্ববিদ্যালয়, দাতব্য সংস্থা এবং লেবার পার্টির এমপিরা এই প্রস্তাবগুলোকে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য “বিধ্বংসী” বলে অভিহিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সতর্ক করে বলেছেন যে, এখুনি যদি অভিবাসীর এই ঢল নিয়ন্ত্রণে এখুনি পদক্ষেপ না নিলে “আমরা একে অপরের কাছে অপরিচিতের দ্বীপে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছি, এমন একটি জাতি নই যা একসাথে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।”
সরকারের প্রস্তাবিত নতুন অভিবাসন নীতির সবচেয়ে বিতর্কিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদেশি কর্মীদের জন্য কঠোর ভিসা বিধিনিষেধ, যার মধ্যে সামাজিক পরিচর্যা খাতের জন্য বিদেশি নিয়োগ বন্ধ করা উল্লেখযোগ্য।
স্বাস্থ্যসেবা পেশাদাররা এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে জানান, যুক্তরাজ্যের সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক প্রতিভার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। নতুন নিয়মগুলোর লক্ষ্য হলো দেশীয় প্রশিক্ষণ উদ্যোগে বিনিয়োগ না করে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ করা ব্যবসার জন্য আরও কঠিন করে তোলা। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কঠোর যাচাইয়ের সম্মুখীন হবে এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা সামগ্রিকভাবে বাড়ানো হবে।
যুক্তরাজ্যের নার্সিং সম্প্রদায়ের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক নিকোলা রেঞ্জার সরকারের নতুন এই পরিকল্পনাগুলোকে “তোষণ এবং বলির পাঁঠা বানানো” বলে নিন্দা করেছেন।
লেবার পার্টির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি আপসানা বেগম বলেন, “আমি পূর্ব লন্ডনের একটি নির্বাচনি এলাকার প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্বিত যেখানে বৈচিত্র্য একটি শক্তি—যেখানে সারা বিশ্ব থেকে আসা অভিবাসীদের সম্প্রদায় রয়েছে। আমাদের অবশ্যই এ বৈরী পরিবেশ বন্ধ করতে হবে, উৎসাহিত করা নয়।” তিনি আরও ঘোষণা করেন যে তিনি সংসদে বর্ডার সিকিউরিটি, অ্যাসাইলাম অ্যান্ড ইমিগ্রেশন বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেবেন।
এদিকে সমালোচকদের যুক্তি, সামাজিক পরিচর্যা খাতে বিদেশি নিয়োগ বন্ধ করা এই খাতে বিদ্যমান কর্মী সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। এর ফলে দুর্বল ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় পরিচর্যা থেকে বঞ্চিত হবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আশঙ্কা করছে যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কঠোর নিয়ম তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং শিক্ষা ও গবেষণায় একটি বিশ্বনেতা হিসাবে যুক্তরাজ্যের সুনাম কমিয়ে দেবে, যা শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনকে বাধাগ্রস্ত করবে। বর্ধিত ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয়তাকেও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীদের জন্য একটি বাধা হিসাবে দেখা হচ্ছে।
