ঢাকা অফিস
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের ডক্টরেট ডিগ্রি ভুয়া। তিনি পিএইচডি সম্পন্ন করেনি। সিডনির ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস এ তথ্য জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া এমন তথ্য সংবলিত চিঠি আপিল বিভাগে উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
রোববার (৪ মে) আপিল বিভাগে বাড়ি সংক্রান্ত মামলায় এ তথ্য দাখিল করা হয়।
ওই চিঠিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তুরিন আফরোজের নামে পিএইচডি ডিগ্রির কোনো রেকর্ড নেই। এমনকি এই নামে কেউ কখনো শিক্ষার্থীও ছিলেন না। অর্থাৎ পিএইচডি সম্পন্ন না করেই ডক্টরেট ডিগ্রি ব্যবহার করতেন তুরিন আফরোজ।
এর আগে আপিল বিভাগে বাড়ি সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক বলেন, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর থাকা অবস্থায় ক্ষমতার সব রকম অপব্যবহার করেছেন। তখন সে ছিল পরাক্রমশালী। এক মুহূর্তের মধ্যে তার মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। উত্তরার বাড়িতে সেই মায়ের থাকার নির্দেশনা প্রার্থনা করছি।
এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরায় পাঁচতলা বাড়িতে তুরিনের মা শামসুন্নাহার বেগম ও তুরিন আফরোজের ভাই শিশির আহমেদ শাহনেওয়াজ আহমেদের থাকা নিয়ে বিচারিক আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ বাতিল করে দেন হাইকোর্ট। ফলে ওই বাড়িতে তাদের বসবাসে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, আইনজীবী বিএম ইলিয়াস কচি, ব্যারিস্টার মনজুর রাব্বী, ব্যারিস্টার আতিকুল হক। তুরিন আফরোজের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাইফুল করিম।
২০২৩ সালের ২ এপ্রিল উত্তরায় ওই বাড়ি ভোগদখলের ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থার আদেশ কেন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হবে, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ। পরবর্তীতে আদালত পরিবর্তিত হয়ে মামলাটি বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে আসে। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ১৯ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল যথাযথ ঘোষণা করে স্থিতাবস্থা বাতিল করে রায় দেন।
