আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে নৃশংস হামলা অব্যাহত রেখেছে দখলদার ইসরায়েল। গত একদিনে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলায় কমপক্ষে আরও ৩২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক। এতে করে অবরুদ্ধ এই উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ৫১ হাজার ২৬০ ছাড়িয়ে গেছে।
গতকাল নিহতদের মধ্যে ১১ জন রয়েছেন যারা খান ইউনিসে তাদের বাড়ির ওপর ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে সৃষ্ট আগুনে পুড়ে মারা গেছে। গাজায় শিশু হাসপাতালও রেহাই পায়নি ইসরায়েলি হামলা থেকে।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) রাতভর এই বিমান হামলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার শঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, ইসরায়েলি বোমা হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মৃতদের উদ্ধারে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকেই আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার গাজা উপত্যকাজুড়ে বোমা বর্ষণ করেছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। গাজা শহরের আল ডোরা পেডিয়াট্রিক হাসপাতালে আক্রমণ করেছে দখলদাররা। এদিন পশ্চিম গাজা সিটিতে আশ্রয় নেওয়া এক বাড়িতে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে একই পরিবারের সাত সদস্য নিহত হয়েছেন। নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে একদল লোককে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান গুলি বর্ষণ করে। এতে দুই মেয়েসহ তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মঙ্গলবারের মধ্যরাতে গাজা শহরের আল-তুফাহ পাড়ায় অবস্থিত আল-দুররা শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে গোলাবর্ষণ করেছে। ওই হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহের সৌর প্যানেলও লক্ষ্য করো বোমা হামলা চালানো হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এক প্রতিবেদনে বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক আগ্রাসনে ভূখণ্ডটিতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ হাজার ২৬৬ জনে পৌঁছেছে।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি আক্রমণে আহত হওয়া আরও ৬০ জনেরও বেশি মানুষকে গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংঘাতের শুরু থেকে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৯১ জনে পৌঁছেছে।
এ অবস্থায় জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ -এর কমিশনার-জেনারেল ফিলিপ লাজ্জারিনি সতর্ক করে বলেছেন, গাজায় দুই মিলিয়নেরও বেশি মানুষ সম্মিলিতভাবে দুঃসহ জীবনযাপন করছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
লাজ্জারিনি হতাশা প্রকাশ করে জানান, গাজার সবাই ক্ষুধার্ত কিন্তু খাদ্য নেই। চারিদিকে ক্ষত-বিক্ষত আহত রোগী কিন্তু ওষুধও ফুরিয়ে গেছে। অথচ ইউএনআরডব্লিউএ’র মানবিক সাহায্যের প্রায় ৩ হাজার ট্রাক গাজার বাইরে আটকে, প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ইসরায়েলি বাহিনী।
