আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে অবিরাম বোমা বর্ষণ করে আসছে দখলদার ইসরায়েল। সর্বমেষ বিমান হামলায় কমপক্ষে আরও ৩৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক। নিহতদের মধ্যে ফিলিস্তিনি ৬ ভাইও রয়েছেন।
এরই মধ্যে উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার ৯৫০ জন ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে গত ১৮ মার্চ গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ১৫০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৪ এপ্রিল) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় ইসরায়েলিদের রোববার বোমাবর্ষণে কমপক্ষে ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে ছয় ভাইও রয়েছেন, যারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের খাবার সরবরাহ করছিলেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, গাজা শহরের আল-আহলি আরব হাসপাতালে ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা হামলার পর চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়ার কারণে এক ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে এই ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
এদিকে সর্বশেষ এই প্রাণহানির ঘটনায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক আগ্রাসনে ভূখণ্ডটিতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ হাজার ৯৪৪ জনে পৌঁছেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি আক্রমণে আহত হওয়া আরও ১১১ জনকে গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংঘাতের শুরু থেকে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১৬ হাজার ১৫৬ জনে পৌঁছেছে। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে থাকলেও উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেননি।
দীর্ঘ ১৫ মাস সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। তারপর প্রায় দু’মাস গাজায় কম-বেশি শান্তি বজায় ছিল; কিন্তু গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে হামাসের মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে মার্চ মাসের তৃতীয় গত সপ্তাহ থেকে ফের গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।
