যুক্তরাষ্ট্র অফিস
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের শুল্ক নীতিতে ঘন ঘন পরিবর্তন এবং অনিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গত কয়েক মাসে বিভিন্ন পণ্য বিশেষ করে গাড়ি, ভোগ্যপণ্য এবং শিল্প যন্ত্রপাতি — বন্দরে আটকে আছে, রেলগাড়িতে আটকে পড়েছে এবং গুদামে দীর্ঘদিন ধরে জমে আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতির জন্য মূলত দায়ী ওয়াশিংটনের একবার শুল্ক আরোপ এবং আবার তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত। এতে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিচ্ছে, যা সামগ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
বিমান ও ইঞ্জিনের মতো বড় পণ্য সাধারণত মার্কিন ক্রেতারা বহু বছর আগেই অর্ডার করে থাকেন। যদিও বিমান শিল্প সরাসরি শুল্কের আওতাভুক্ত নয়, তবুও শুল্ক সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এবং আমদানি প্রক্রিয়ার জটিলতা এই খাতে পণ্য পরিবহনে বিলম্ব ঘটাচ্ছে।
রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরবরাহ চেইনের ওপর বর্তমানে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে যন্ত্রাংশ ও দক্ষ শ্রমিকের সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছিল, ঠিক তখনই শুল্ক সংক্রান্ত এই নতুন চ্যালেঞ্জ তাদের আরও বিপাকে ফেলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আমদানি নীতিতে স্থিতিশীলতা না থাকলে ভবিষ্যতে ভোক্তা পণ্যের দাম বাড়তে পারে, এবং শিল্প খাতে উৎপাদন বিঘ্নিত হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে সামগ্রিক অর্থনীতিতে।
চলমান এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে সুস্পষ্ট এবং দীর্ঘমেয়াদী নির্দেশনার দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা আগাম পরিকল্পনা করতে পারেন এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।
এদিকে মার্কিন শুল্ক নীতির নাটকে বর্তমান অনিশ্চিত বাজারে এখনও চলছে ব্যাপক উত্থান-পতন। এর আগে, কোভিড মহামারির সময় এতটা অস্থিতিশীল বাজার দেখেছিল বিশ্ব।
বৃহস্পতিবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক সাড়ে তিন শতাংশ হ্রাস পায়। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে এই সূচক সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল। সেখান থেকে প্রায় ১৫ শতাংশ অধঃপতন হয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিটে পতনের ধাক্কা এশিয়ার বাজারেও টের পাওয়া যায়। জাপানের নিক্কেই সূচক চার শতাংশ কমে যায়, যদিও তাইওয়ান ও হংকংয়ের বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। ইউরোপের বাজারও কিছুটা ইতিবাচকভাবে দিন শুরুর ইঙ্গিত দেয়।
