যুক্তরাষ্ট্র অফিস
যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) কর্মকর্তারা ভ্রমণকারীদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস—যেমন ফোন, ল্যাপটপ এবং ট্যাবলেট কোনো কারণ না দেখিয়েই তল্লাশি করার ব্যাপক আইনি ক্ষমতা রাখেন। এই ক্ষমতার উৎস হলো চতুর্থ সংশোধনীর ‘বর্ডার সার্চ এক্সেপশন’ নীতি, যা ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল যুগে গোপনীয়তার অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সিবিপি’র এই তল্লাশির ক্ষমতা দেশের সীমানা সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব থেকে আসে, যার মধ্যে রয়েছে নিষিদ্ধ পণ্য শনাক্তকরণ, অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি মোকাবিলা।
সংস্থাটির মতে, এই ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা অতিক্রমকারী সব ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ভ্রমণকারী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হোন বা বিদেশি। ২০২৪ অর্থবছরে, প্রায় ৪২০ মিলিয়ন সীমানা অতিক্রমের মধ্যে সিবিপি ৪৭ হাজার ডিভাইস তল্লাশি করেছে—যা ২০১৬ সালের ১৯ হাজার ৫১ জন তল্লাশির তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
‘ডিজিটাল বিশ্বে আমেরিকাকে নিরাপদ রাখতে সীমান্ত তল্লাশি অপরিহার্য,’ একজন সিবিপি মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মকর্তারা নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা এবং গোপনীয়তার বিষয়ে ভারসাম্য রক্ষা করে এই ক্ষমতা প্রয়োগে প্রশিক্ষিত।’ সংস্থাটি ‘বেসিক” তল্লাশি—যেখানে কর্মকর্তারা হাতে ডিভাইসের বিষয়বস্তু পরীক্ষা করেন—এবং “অ্যাডভান্সড” তল্লাশি—যেখানে ডেটা কপি বা বিশ্লেষণের জন্য বাহ্যিক সরঞ্জাম ব্যবহৃত হয় এর মধ্যে পার্থক্য করে।
অ্যাডভান্সড তল্লাশির জন্য আইনি লঙ্ঘন বা নিরাপত্তা উদ্বেগের যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ প্রয়োজন, কিন্তু বেসিক তল্লাশি কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই করা যায়।
এই নীতি গোপনীয়তা সমর্থক ও আইন বিশেষজ্ঞদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। তারা যুক্তি দেন, আধুনিক ডিভাইসে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য—ইমেইল, ছবি, আর্থিক রেকর্ড—এর জন্য বেশি সুরক্ষা প্রয়োজন।
“আপনার ফোন শুধু লাগেজ নয়; এটি আপনার পুরো জীবনের জানালা, বলেন ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশনের (ইএফএফ) সিনিয়র স্টাফ অ্যাটর্নি সোফিয়া কোপ।
তিনি বলেন, ‘সীমান্তে ওয়ারেন্ট ছাড়া তল্লাশির অনুমতি মৌলিক গোপনীয়তার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে।’
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। গত মার্চে, একজন লেবানিজ-আমেরিকান চিকিৎসককে বৈধ এইচ-১বি ভিসা থাকা সত্ত্বেও তার ফোনে হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট ছবি পাওয়ায় দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়। আরেকটি ঘটনায়, টেক্সাসে একজন ফরাসি বিজ্ঞানীকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় যখন তার টেক্সট মেসেজে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা পাওয়া যায়। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)-এর মতো সমালোচকরা বলছেন, এই তল্লাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করতে পারে এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে লক্ষ্য করে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য তল্লাশি প্রত্যাখ্যান করলে প্রবেশে বাধা দেওয়া যায় না, তবে সিবিপি ডিভাইসটি জব্দ করে পরীক্ষার জন্য আটকে রাখতে পারে, যা ভ্রমণে বিলম্ব ঘটাতে পারে।
গ্রিন কার্ডধারী বা ভিসাধারী বিদেশিদের জন্য ঝুঁকি বেশি—প্রত্যাখ্যানের ফলে প্রবেশে বাধা বা অভিবাসন জটিলতা দেখা দিতে পারে। “ভ্রমণকারীদের ঝুঁকি সহ্য করার ক্ষমতা বিবেচনা করতে হবে,” কোপ পরামর্শ দেন।
“শক্তিশালী পাসওয়ার্ড এবং এনক্রিপশন সাহায্য করতে পারে, তবে সিবিপি তবুও ডিভাইস জব্দ করে ভাঙার চেষ্টা করতে পারে।”
আইনি পরিস্থিতি এখনও অস্পষ্ট। সুপ্রিম কোর্ট সীমান্তে ডিভাইস তল্লাশি নিয়ে সরাসরি রায় দেয়নি, তবে নিম্ন আদালতগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। নবম সার্কিট ওয়ারেন্টবিহীন তল্লাশিকে শিশু পর্নোগ্রাফির মতো ডিজিটাল নিষিদ্ধ পণ্য শনাক্তকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছে, যেখানে ২০২৩ সালে নিউইয়র্কের একটি জেলা আদালত জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া সেল ফোন তল্লাশির জন্য ওয়ারেন্টের প্রয়োজন বলে রায় দিয়েছে। গোপনীয়তা সমর্থকরা আশা করছেন, এই অসঙ্গতি বিষয়টিকে সুপ্রিম কোর্টে স্পষ্টতার জন্য নিয়ে যাবে।
ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের জবাবে, সিবিপি স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়ে প্রবেশপথে সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে এবং ভ্রমণকারীদের নীতি সম্পর্কে জানাতে “টিয়ার শিট” বিতরণ করছে। তবে, কানাডা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত তল্লাশি নিয়ে নাগরিকদের সতর্ক করার জন্য ভ্রমণ পরামর্শ আপডেট করায় বিতর্ক থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আপাতত, যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা অতিক্রমকারীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে তাদের ডিভাইসে সংবেদনশীল তথ্য কম রাখতে—অথবা সেগুলো বাড়িতেই রেখে আসতে।
