নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সাবেক মেয়র ও বিএনপির নেতা মহসিন মিয়া মধুর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও পরে মধুকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্বস্তি জানিয়েছে স্থানীয়রা। তাকে গ্রেপ্তারে উল্লাস জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে পোষ্ট করেছেন অনেকে। তবে স্থানীয়রা তার পক্ষে বিপেক্ষে নানা মন্তব্য করলেও বেশিরভাগ লোকই স্বস্তির নি;শ্বাস ফেলেছেন মধু গ্রেপ্তার হওয়ায়।
ঈদের আগের দিন রাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধুর নেতৃত্বে তার অনুসারীদের তাণ্ডবে পর্যটন নগরী ও চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গল শহরে হয় উঠে আতঙ্কের নগরী। ভয়ে মুহূর্তে শহর হয়েছিল ফাঁকা। ব্যবসায়ীরা ভয়ে দোকানপাঠ বন্ধ করতে বাধ্য হন।
দেশি ও বিদেশি অস্ত্রের মহড়া, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় গোটা শহরের মানুষজনের মধ্যে দেখা দেয় অজানা আতঙ্ক।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মহসিন মিয়া মধুর পক্ষে তার অনুসারীরা
লেখালেখি করলেও বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ ফেলেছেন স্বস্তির নি:শ্বাস। বিরূপ মন্তব্য থেকে বাঁচতে পারেনি স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরাও। বিগত ১৫ বছর ছিলেন ক্ষমতাবানদের তোষণে যারা ছিলেন মধু অনুসারী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত তারা কোন সংবাদ পরিবেশন না করায় অনেকেই হয়েছেন ক্ষুব্ধ। এ নিয়ে ফেসবুকে ক্ষোভ জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গলের মানুষ।
মুনজের আহমদ চৌধুরী নামে একজন লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের তার ওয়ালে লিখেছেন, শ্রীমঙ্গলে সব সরকার আমলের সরকার দলীয় ‘শ্রী-ধর’ মধু আটক। এরপর তিনি আরো লিখেছেন –
ঈদের রাতে সংঘবদ্ধ হামলা ও কয়েকটি এলাকা জুড়ে তাণ্ডবে ঘটনায়, আওয়ামী লীগের মন্ত্রী আব্দুস শহীদের ছায়ায় থেকে শ্রীমঙ্গল পৌরসভায় সীমানার মামলা করিয়ে-ক্ষমতার সাথে কৌশলী নৈপুন্যে আওয়ামী লীগ আমলের টানা ১৭ বছরের দাপুটে মেয়র, বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী, বর্তমান ইউনূস সরকার আমলে ন্যাশনাল টি কোম্পানির পরিচালক পদ বাগিয়ে নেয়া, সব আমলে মধুকুঞ্জ গুলোতে মধুর যোগান দিয়ে পাওয়ার পার্টিতে থাকা দুর্দান্ত এক চরিত্র, শিল্পপতি মহসিন মিয়া মধু ও তার বাহিনীর কয়েকজনকে তাণ্ডব শেষে অস্ত্রসহ আটক করেছে যৌথবাহিনী।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শ্রমিকদের সাথে মধুর কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি গাড়ী ভাংচুর করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত। এতে অন্তত ত্রিশ জন আহত হন।
মহসীন নিবাস নামের শহরের পাওয়ার পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত নিজ বাসা থেকে মধু সহ তার বাহিনীর কয়েকজনকে আটক করে যৌথবাহিনী।
বিতর্কিত পথে শিল্পপতির সাম্রাজ্য বড় করা একজন বিত্তবান কিভাবে সবগুলি রাজনৈতিক দলের চরিত্র বেঁচা ক্ষমতাবান নেতা, সরকারকে ম্যানেজ করে সব আমলে আজীবন সরকারি দলের নেতা থাকতে পারেন, মৌলভীবাজার জেলায় সেই সিস্টেম শিল্পের একজন বয়সে প্রবীন কিন্তু একশনে-পারফরমেন্সে এখনো দুর্দান্ত উদাহরন তিনি।
নিজ যোগ্যতায়, ক্ষমতার কিছুটা জানান দিতে গিয়েছিলেন চাদঁরাতে। কিন্তু, বিপত্তি বাঁধাল বেরসিক সেনাবাহিনী। বিনিময় মূল্যে বাঁধা মধুখোর সিভিল প্রশাসন সব সময় মধুদের পক্ষেই থাকায় দানবরা আরো দাম্ভিক হয়, ভোট থেকে পদ সব কিছু জোর করে বা কিনে নেয়াকেই নিয়ম বানায় তারা।
ম্যানেজ মাস্টার খ্যাত মধু ভাইরা আসলে সব সময় সরকারী দলে থাকেন, থাকার যোগ্যতা রাখেন। সরকার বদলে গেলে তারা দ্রুতলয়ে পল্টি মেরে নতুন সরকারের দালাল চক্রের বড় দালালগুলিকে ভাল দাম দিয়ে কিনে নেন, এটুকুই। তাই সব দোষ আজ কেবল বেকায়দায় পড়ে খাঁচাবন্দি একজন মধুকে দেয়া অনায্যও বটে কিছুটা।
স্থানীয়রা বলছেন, মামলা হলেও আইনের ফাঁক গলে উচ্চ আদালতের জামিন নিয়ে বহু লাখ খরচের বিশাল শোডাউন দিয়ে দ্রুতই ফিরে আসবেন সাবেক মেয়র মধু। জেলার নগদে-মাসিকে বিক্রি হওয়া নেতারা তার গলায় মালা দিয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে নির্দেশনা দিয়ে সেই মঞ্চ নাটক ভাইরাল করাবেন। তাদের সর্বাত্মক সহায়তা করবেন বিক্রিত লাইভ, ভিউ ব্যবসায়ী ও নিউজ বিক্রেতারা।
সৈয়দ নবী টিপন নামে আরেকজন লিখেছেন–
কার এই দুঃসাহস মধুর চাকে ঢিল মারে? যদিও মধু ভাই বিএনপির লেবাস গায়ে লাগিয়ে আছেন বিগত সতেরো বছর উনার পীরে কামেল ছিলেন। আমাদের আওয়ামী লীগের দরবেশ বাবা সালমান এফ রহমান. মধু ছিলেন সিন্ডিকেটের এক ক্ষুদ্র অংশগ্রহণকারী যেখানে কোন দল করেন এটা মুখ্য ছিল না কত টাকার কারবারি তা গৌন ছিল।
আজ যদি উনার পীর সাহেব জিন্দা থাকতেন তাহলে সেনাবাহিনীর সাহস হতো না মধু চেখে দেখবার
সৈয়দ ছায়েদ আহমদ নামের একজন মানুষের গণমাধ্যম কর্মী ইঙ্গিত করে লিখেছেন
ঈদের আনন্দ তো দূরের কথা, ঈদের জামাতটাও পড়তে পারলেন না!! হায়রে ক্ষমতা?
মো. সালাউদ্দিন নামে আরেক সাংবাদিক লিখেন রাজনৈতিক নেতাদের বগলের নিচে থেকে প্রোপার সাংবাদিকতা করা যায় না।
রুমেল খান লিখেন, সারাবছর অপেক্ষা করে চাঁদ রাতের জন্য ব্যবসায়ীরা, আজ যারা ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করলো তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক। এবং তাদের শাস্তি দেওয়া হোক, ব্যবসায়ীদের দাবি?
আহমদ পারভেজ নামের একজন প্রশ্ন তুলে লিখেছেন গদা চুরের আবার কি ইজ্জত
কামরুল ইসলাম নামের আরেক জন চামচার কারণে নেতা কট এটা হল বাস্তবতা যে মাছ বেশি পানিতে ফাল্লায় সে মাছ জালে কট কায়।
আরিফ নামে আরেক জন ব্যঙ্গ করে লিখেন শ্রীমঙ্গলবাসী কি ধন হারাইলায় বুঝবায় বিনা লাভের আর বিস্কুট পাইরায় না
হিরো নাহিদ নামের আইডি থেকে পোস্ট করা লিখা- ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ক্রেতাদের উপর আক্রমণকারী সন্ত্রাসী আনার মেম্বারের বিচার চাই।
ইমন এ জুনেদ লিখেছেন যখন দ্রব্যমূল্য ও উর্দ্ধগতি সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে যায় তখন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার জননন্দিত সফল পাঁচবারের সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু চাচা বিনা লাভের বাজার নতুন বাজারে সৃষ্টি করেন। যা সমগ্র বাংলাদেশে ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পর শ্রীমঙ্গলের অনেকের অনুরোধে উনি আরেকটি শাখা গদারবাজারে করেন এতে গিয়ে উনার প্রতি সাধারণ মানুষের দোয়া ভালোবাসা জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। সে কারণে পরিকল্পিতভাবে একটি কুচক্রী মহল উনার মান সম্মান ক্ষুন্ন করার লক্ষ্যে একটি নীল নকশা তৈরি করেন পরিশেষে উনারা সেই নীল নকশা বাস্তবায়ন করেন আমি মহসিন মিয়া মধু চাচার কর্মী এটা আমার গর্ব ইনশাল্লাহ আধার কেটে আলো আসবে।
মো নাজমুল হক শাকিল লিখেছেন, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব, শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাব
শ্রীমঙ্গল পৌর প্রেসক্লাব এর সাংবাদিকরা কোথায় আর কত দালালি করবেন এইবার দালালি ছাড়েন। নিউজ করতে যদি ভয় পান তাইলে কি (মার্জিত শব্দ নয়) সাংবাদিক ।
উল্লেখ্য যে, গত ৩১ মার্চ রোববার চাঁদ রাতে উপজেলার গদার বাজার এলাকায় হওয়া এ সংঘর্ষে অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছে। ভাঙচুর করা হয় ১৫টি টমটম ও একটি প্রাইভেটকার। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা শহরে । এ সময় শহরের বিভিন্ন মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা লোকজন আটকা পড়েন। সংঘর্ষে উপজেলার সবুজবাগ এলাকার জয় চৌধুরী নামের একজন পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে রাতেই সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে দুইপক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় শহরে বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে পুলিশ ৫৬টি শটগানের ফাঁকাগুলি ছুড়ে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় সেনাবাহিনী। আটক করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধুসহ ১৪ জনকে।
