যুক্তরাষ্ট্র অফিস
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার অরলিন্স শহরে বর্ষবরণ উদ্যাপনে গাড়ি উঠিয়ে দেয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে। বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৩টার পর নিউ অরলিন্স শহরের ফ্রেঞ্চ কোয়ার্টারে এক ব্যক্তি ভিড়ের মধ্যে পিকআপ ট্রাক চালিয়ে দেয়। এ সময় তাদের ওপর বিন্দুক হামলাও চালানো হয়।
এতে বেশ কয়েকজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন। বাকিরা গুরুতর আহতাবস্থায় চিকিৎসাধীন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, গাড়ির চালকও নিহত হয়েছেন, তবে তার মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট নয়।
বর্ষবরণ উৎসবে সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা। এতে হতবাক করা তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, হামলাকারী মার্কিন সেনাবাহিনীরই কর্মী ছিলেন। দেশের হয়ে কাজ করেছেন অন্তত ১৩ বছর।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্দেহভাজন অভিযুক্ত শামসুদ-দীন জব্বার ৪২ বছর বয়সী। তিনি টেক্সাসের বাসিন্দা এবং মার্কিন নাগরিক।
শামসুদ-দীন জব্বার ১৩ বছর ধরে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন। ওই সময় আফগানিস্তানেও মোতায়েন হন তিনি। সেখানে তালেবান নির্মূলে মার্কিন বাহিনীকে সফলতার সঙ্গে সহযোগিতা করেন।
জব্বার ২০০৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে মানবসম্পদ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন। তারপর তিনি আর্মি রিজার্ভে আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে যোগদান করেন। ২০২০ সাল পর্যন্ত সেখানেই কর্মরত ছিলেন। অবসর গ্রহণকালে জব্বার স্টাফ সার্জেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হন।
সেনাবাহিনীতে চাকরি করার আগে জব্বার ‘বিলম্বিত প্রবেশ কর্মসূচির’ অধীনে ২০০৪ সালে নৌবাহিনীতে তালিকাভুক্ত হন। কিন্তু এক মাস পরে তাকে ছাঁটাই করে দেওয়া হয়।
করপোরেট রেকর্ড দেখায়, জব্বার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন।
নিউ অরলিন্সের ফেডারেল কর্মকর্তা এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারীরা বলেছেন, জব্বার একা কাজটি করেননি। তারা জব্বারের সহযোগীদের খুঁজছেন।
এফবিআই বলেছে, জব্বারের ট্রাকে ইসলামিক স্টেটের পতাকা ছিল। হামলাটিকে সন্ত্রাসবাদের একটি সম্ভাব্য কাজ হিসেবে দেখছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। ইসলামিক স্টেট বা আইএসআইএস সুন্নি মুসলিম জঙ্গি গোষ্ঠী। তারা সারা বিশ্বে এ ধরনের হামলা চালিয়ে আসছে।
ঘটনার পর থেকে বিরতিহীন তদন্ত চলছে। হামলাকারীর পরিচয় এবং মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিতের পর তদন্তকারীরা বিস্মিত। জব্বার কেন এ ধরনের হামলা করলেন- এর কোনো ক্লু খুঁজে পাচ্ছেন না তারা। এদিকে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ঘটনাস্থলেই জব্বার নিহত হওয়ায় জব্বারের মোটিভ উদঘাটন আরও দুরূহ হয়ে গেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই হামলাকে ঘৃণ্য বলে উল্লেখ করেছেন। বাইডেন বলেন, যারা নিহত হয়েছেন তাদের সকল পরিবারের প্রতি, আহত সকলের প্রতি, নিউ অরলিন্সের সকল মানুষ যারা শোকাহত তাদের প্রতি সমবেদনা জানাই। এই ঘটনায় আমি হতাহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করছি।
