ডেস্ক রিপোর্ট
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে খালিস মিয়া নামে এক বাংলাদেশি অভিবাসী পুলিশি হেফাজতে মারা গেছেন। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেছে এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং অভিবাসন সংস্থাগুলো।
গ্রিসে মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) তারিখে ওই বাংলাদেশি অভিবাসী মারা গেছেন। মৃত্যুর সময় তিনি এথেন্সের একটি থানার হাজতে আটক ছিলেন।
এথেন্সের বাংলাদেশ দূতাবাস ইনফোমাইগ্রেন্টসকে সোমবার (৭ অক্টোবর) জানিয়েছে, ‘ আমরা এটিকে আপাতত ‘অপমৃত্যু’ হিসেবে দেখছি। বাকিটা তদন্তে শেষ জানা যাবে।
স্থানীয় কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে নিহত খালিস মিয়ার দেশের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলায়।’
নিহত খালিস মিয়াকে বাংলাদেশি অধ্যুষিত ওমোনিয়া এলাকা থেকে পুলিশের গাড়ির ক্ষতি করার অপরাধে আটক করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তিনি একজন অনথিভুক্ত অভিবাসী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রিস পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে পুলিশ সদস্যরা নিহত খালিস মিয়াকে ফাঁসিতে ঝুলতে দেখতে পান। তাকে যে সেলে সেখানে আরো ১১ জন বন্দি ছিলেন।
এ অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনা এথেন্সের প্রসিকিউটরকে জানানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করে গ্রিক পুলিশ। এছাড়া একটি মেডিকেল পরীক্ষক এবং ফৌজদারি অধিদপ্তরের একটি ইউনিটকে ঘটনা তদন্তের জন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
গ্রিসে সদ্য দায়িত্ব নেওয়া বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা এ ঘটনায় সোমবার ৭ (অক্টোবর) ইনফোমাইগ্রেন্টসকে বলেন, এ ঘটনায় আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি। গ্রিসের মতো দেশে এটি মেনে নেওয়া কষ্টের। কর্তৃপক্ষ আমাদের এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। আমরা তাদের কাছে বিস্তারিত জানতে চেয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, দূতাবাসের পক্ষ থেকে নিহতের একজন ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। আমরা দেশে অবস্থানরত তার মায়ের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। পরিবারের সম্মতি মিললে এ ঘটনায় ন্যাবিচার পেতে আমাদের পক্ষ থেকে একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হবে।
গ্রিসে এ নিয়ে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুইজন অভিবাসী পুলিশি হেফাজতে মারা গেলেন। গত মাসে একজন পাকিস্তানি অভিবাসী একই থানায় মারা গেলে এ বিষয়ে বিশদ তন্তের আদেশ দিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ।
এদিকে বাংলাদেশি খালিস মিয়া (২৯) মৃত্যুর প্রতিবাদে আগামী ১২ অক্টোবর ঘটনাস্থলে সামনে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশি কমিউনিটি ইন গ্রিস, বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ, অভিবাসন সংস্থা কেরফাসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন।
সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস।
