আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গত কয়েকদিনে ছোট নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করা অন্তত ১১৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে মানবিক সংস্থাগুলো।
বুধবার (৭ আগস্ট) রাতে দাতব্য সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) পরিচালিত জাহাজ জিও ব্যারেন্টস ৭৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে৷ এরপর তাদের ইতালির উত্তর-পূর্বের বন্দর রাভেনাতে নামানো হয়৷
বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক অভিবাসন পথগুলোর মধ্যে একটা হলো সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুট৷ উদ্ধারস্থল থেকে রাভেনার পথে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল এমএসএফ৷ মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স প্ল্যাটফর্মে তারা এটিকে ‘জোর করে চার দিনের নেভিগেশন’ বলে উল্লেখ করেছে৷ জাহাজে থাকা ৭৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ৩ আগস্ট আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুটো পৃথক অভিযানে উদ্ধার করা হয়৷
ইতালির পার্লামেন্ট ২০২৩ সালে একটি ডিক্রি অনুমতি দেয়। প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি সরকারের জারি করা এই আইনে ভূমধ্যসাগরে একটি উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পরই ইতালি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত বন্দরে চলে যেতে হবে৷ এনজিওগুলোর অভিযোগ, এর ফলে সমুদ্রে আরো অনেক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে৷
জাহাজের জন্য নির্ধারিত বন্দরগুলো প্রায়ই উদ্ধারস্থল থেকে অনেকটা দূরে৷ তাই সেখানে পৌঁছাতে বেশ কয়েকদিন সময় লেগে যায়। ইতালি সরকারের দাবি, সিসিলির অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলো এবং লাম্পেদুসার মতো ছোট দ্বীপগুলো যাতে ভিড়ে উপচে না পড়ে, তা নিশ্চিত করার জন্য এই নিয়ম করা হয়েছে। এছাড়া ইতালির দক্ষিণে অবকাঠামোও কম৷ যদিও এনজিওগুলোর যুক্তি, এই নীতির ফলে তাদের উদ্ধারকাজে বাধা পড়ছে, ফলে আরো বেশি সংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হচ্ছে।
পাল তোলা নৌকায় ৪৫ জনকে উদ্ধার
বুধবার রেসক-শিপ সংস্থা পরিচালিত পালতোলা নৌকা (নাদির) ৪৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীসহ একটি জলযান উদ্ধার করেছে৷ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে সমুদ্রে টানা দুই দিন ‘উদ্দেশ্যহীনভাবে ভেসে যাচ্ছিল’ নৌকাটি৷ অ্যালার্ম ফোন সংস্থার সতর্কতা জারির ফলে বিপদগ্রস্ত নৌকার সন্ধান মিলেছিল বলে জানিয়েছে রেসক-শিপ৷
সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস।
