ডেস্ক রিপোর্ট
অনিয়মিত অভিবাসন ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা ফ্রন্টেক্স-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে সার্বিয়া৷ এর আওতায় দেশটির স্থল সীমান্তে ও জলসীমায় নজরদারির পাশাপাশি সার্বিয়ার সঙ্গে যৌথ অভিযান পরিচালনা করবে ফ্রন্টেক্স৷
মধ্যপ্রাচ্য, আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং উত্তর আফ্রিকার হাজারো অভিবাসনপ্রত্যাশী বলকান রুটভুক্ত তুরস্ক, বুলগেরিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া এবং সার্বিয়া হয়ে পশ্চিমা ইউরোপের ধনী দেশগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন৷
সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে মঙ্গলবার ফ্রন্টেক্সের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন ইউরোপীয় কমিশনের স্বরাষ্ট্র কমিশনার ইলফা ইয়োহানসন৷ চুক্তি সই শেষে সার্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভিকা ডাচিক বলেন, এই চুক্তি বলকান দেশগুলোকে তাদের সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদারে সহায়তা করবে৷
ডাচিক সাংবাদিকদের আরো বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আসা কর্মকর্তারা আমাদের সীমান্ত পুলিশের সঙ্গে মিলে কাজ করবে৷ এতে অনিয়মিত অভিবাসনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়টি আরো কার্যকর হবে৷’
ইউরোপীয় কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, মানবপাচারকারীদের ঠেকাতে এবং আগ্নেয়াস্ত্র পাচার ও সংগঠিত অপরাধের ঝুঁকি বিবেচনায় সব অভিবাসন রুটে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার করার কোনো বিকল্প নেই৷’
২০১৯ সালের ইউরোপীয় ইউনিয়নের রেগুলেশন অনুযায়ী, যেসব দেশের সঙ্গে ফ্রন্টেক্স চুক্তি করবে সেসব দেশে সীমান্তে নজরদারি ও সীমান্তে আসা ব্যক্তিদের নিবন্ধনের দায়িত্ব পালন করতে পারে৷
২০২১ সালের একটি সমঝোতার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া এবং ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে থাকা সার্বিয়ার সীমান্তে যৌথ অভিযানের অনুমতি পেয়েছিল ফ্রন্টেক্স৷ কিন্তু নতুন এই চুক্তিতে সেই সুযোগকে আরো প্রসারিত করা হলো৷
সার্বিয়ার সঙ্গে পশ্চিম বলকান দেশ বসনিয়া, মন্টিনিগ্রো, উত্তর মেসিডোনিয়া এবং কসোভোর সীমানাও রয়েছে, যদি কোথাও কোথাও সীমান্ত বিরোধও রয়েছে৷ তবে পশ্চিম বলকানভুক্ত ছয়টি দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত সার্বিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, আলবেনিয়া এবং মন্টিনিগ্রো ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে৷
ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, গত বছরের প্রথম ১০ মাসে অন্তত এক লাখ অভিবাসনপ্রত্যাশী বলকান রুটটি ব্যবহার করেছেন৷
২০১২ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার চেষ্টায় আছে সার্বিয়া৷ কিন্তু দেশটির বিরুদ্ধে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উপর হামলা এবং তাদের প্রতিবেশী দেশে জোর করে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে৷ অবশ্য, অভিযোগগুলো বরাবরই অস্বীকার করে আসছে সার্বিয়া সরকার৷
সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস।
