যুক্তরাষ্ট্র অফিস
আমেরিকায় বসবাস করা যেসব মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রীর বৈধ কাগজপত্র নেই, তাদের জন্য নাগরিকত্বের একটি পথ খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের একটি অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন৷ যা সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গণহারে প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার সম্পূর্ণ উলটো পদক্ষেপ।
নতুন প্রোগ্রামের আওতায় ১৭ জুন পর্যন্ত কমপক্ষে দশ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করেছেন এমন প্রায় পাঁচ লাখ অভিবাসীকে বৈধ কাগজপত্র দেয়া হবে৷
এছাড়া ২১ বছরের কম বয়সী ৫০ হাজার শিশুকেও বৈধ কাগজপত্র দেয়া হবে যাদের বাবা-মায়ের অন্তত একজন মার্কিন নাগরিক৷ তবে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের রেকর্ড আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই নীতি কার্যকর হবে না৷
আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে বাইডেন এমন ঘোষণা দিলেন৷ একইসঙ্গে তিনি ট্রাম্পের নীতি ও অভিবাসী পরিবারগুলোর প্রতি অবমাননাকর ভাষা ব্যবহারের সমালোচনা করেন৷
তবে বাইডেন এর আগে ট্রাম্পের মতোই অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন৷ তার সময়ে রেকর্ড সংখ্যক অভিবাসী গ্রেপ্তার হয়েছেন৷ ট্রাম্পের মতো তিনিও আশ্রয় আবেদনের নীতি কঠোর করেছেন৷ ট্রাম্প শিবির বাইডেনের এই ঘোষণার বিরোধিতা করেছে৷ তাদের প্রচারণা শিবিরের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বাইডেনের নতুন কর্মসূচিকে অ্যামনেস্টি বলে অভিহিত করেছেন৷
তিনি বলেছেন, এটি অবৈধ অভিবাসনের আরেকটি আমন্ত্রণ৷ টেক্সাস গভর্নর গ্রেগ আবোট ও অন্য রিপাবলিকান নেতারাও এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন৷ তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস লোপেজ ওব্রাডর সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন৷
তবে বাইডেন দাবি করেছেন, তার এই ঘোষণা ৭০ ভাগ আমেরিকান সমর্থন করেন৷
এদিকে অভিবাসন ইস্যুতে সবসময় কঠোর নীতি অবলম্বন করেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এবার আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিবাসন ইস্যুতে সুর নরম করলেন তিনি। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যদি ফের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন তাহলে কলেজগুলো থেকে গ্র্যাজুয়েট করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের গ্রিন কার্ড দেবেন। তবে অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বিতাড়িত করার ব্যাপারে অনড় রয়েছেন সাবেক এই বিতর্কিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এক্ষেত্রে তিনি বাইডেনের সমালোচনাও করেছেন।
