ঢাকা অফিস
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ১ হাজার ২১৭ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এ প্রস্তাব করেন।
২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় এ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বেড়েছে ১৯৯ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে (২০২৩-২৪) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ১৮ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব ছিল। পরে সংশোধিত বাজেটে সেটি ৭০৭ কোটি টাকা নির্ধারণ হয়।
এবারের বাজেটে মন্ত্রণালয়ের উন্নয়নে ৭৬০ কোটি ও পরিচালনে ৪৫৬ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ১৭৬টি দেশে ৯৭ লাখ ৭ হাজার ২৫০ জন বাংলাদেশি কর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে। তাদের মধ্যে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ১৩ লাখ ৭০ হাজার ৭০ জন কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিদেশ ফেরত কর্মীদের সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অনুকূলে ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এই বরাদ্দ থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত ১২ হাজার ৮৯ জন ঋণগ্রহীতাকে ২৯৩ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রম অভিবাসনে সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য চলমান কার্যক্রমকে আরো জোরদার করা হবে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতিমালার আওতায় প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য নতুন নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান করা হবে। সরকারিভাবে স্বল্প অভিবাসন ব্যয়ে বিদেশে কর্মী পাঠানো হবে এবং উপজেলা পর্যায়ে নতুন করে ৫০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করা হবে।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে প্রবাসফেরত আহত ও অসুস্থ কর্মীর চিকিৎসার্থে ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৮৫ জনকে ১৯ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বৈধভাবে বিদেশ গমনকারী মৃতকর্মীর পরিবারকে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৩৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাওয়ায় রেমিট্যান্স আহরণের গতি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ১০ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে দ্বিগুণ হয়ে ২১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
